নদীর গতিপথ ঘোরাতে ব্যারেজে নামানো হল পোকল্যান,মেরামতির কাজে গতি না আসায় সোমবার থেকে বাড়তে পারে জল সঙ্কট।
নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=রাতের অন্ধকারেও জারি রইল দুর্গাপুর ব্যারেজের ৩১নম্বর লকগেট মেরামতির কাজে গতি আনার লক্ষ্যে।ইতিমধ্যে রবিবার তিনটি পোকল্যান নামিয়ে দামোদর নদের পলি সরিয়ে ৩১নম্বর গেটের দিক থেকে নদীর গতিপথ অন্য গেটের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে,একই সাথে বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে। দামোদর নদের জলের স্তর নামাতে কোনো চেষ্টার ত্রুটি করছেন না সেচ দফতরের আধিকারিক ও প্রযুক্তিবিদরা, কারণ জলের স্তর না নামা পর্যন্ত ৩১নম্বর লকগেট পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছেনা ফলে ভাঙা এই লকগেট মেরামতির কাজে গতি মিলছেনা।সেচ দফতরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার(ওয়েস্ট)জয়ন্ত দাস জানিয়েছেন,সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে ভাঙা এই লকগেটের মেরামতির কাজ তাড়াতাড়ি শুরু করা যেতে পারে, আর যত তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে ততো তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হবে গোটা পরিস্থিতির। তবে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ভাঙা লকগেট মেরামতির কাজটা শুরু না করতে পারায় টেনশনটা শুরু হয়েছে অন্য জায়গায় আর সেটা হল পানীয় জলের সঙ্কট। রবিবার থেকে এই সঙ্কট শহর দুর্গাপুরের বেশ কিছু অংশে শুরু হয়েছে, যে তালিকায় আছে সগরভাঙ্গা কলোনী,সগরভাঙ্গা গ্রাম, ডিপিএল কলোনী, সহ শহরের বেশ কিছু প্রান্ত, সোমবার থেকে এই অবস্থা আরো ভয়ঙ্কর হবে বলে মনে করছেন অনেকে, জলসঙ্কট তৈরী হতে পারে ছোটো বড় অনেক কারখানায় ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে উৎপাদন পর্ব। পশ্চিম বর্ধমানের জেলা শাসক পূর্ণেন্দু মাজি রবিবার দুর্গাপুর ব্যারেজ পরিদর্শনে এসে জানান, চার থেকে পাঁচ লক্ষ পাউচ জলের প্যাকেট তারা বন্টন করার জন্য রেখেছেন, শহর দুর্গাপুরে পানীয় জলের যাতে কোনোরকম সঙ্কট তৈরী না হয় সেই অবস্থার মোকাবিলার জন্য তৈরী রয়েছে জেলা প্রশাসন। দুর্গাপুরের মহানাগরিক দিলীপ অগস্তি আশ্বস্থ করেছেন বাঁকুড়া জেলা শাসকের সাথে তার কথা হয়েছে এই জেলা থেকে পর্যাপ্ত জলের ট্যাঙ্কার দুর্গাপুর ঢুকছে, আসানসোল পুর নিগমের প্রশাসক জিতেন্দ্র তেওয়ারীও তাকে জানিয়েছেন, আসানসোল থেকেও জলের ট্যাঙ্কার দুর্গাপুর আসছে, আর আমাদের তো নিজস্ব ট্যাঙ্কার রয়েইছে। কিন্তু লকগেটের মেরামতির প্রশ্নে যে গতিতে কাজ চলছে তাতে করে সেচ সচিব নবীন প্রকাশ রবিবার দুর্গাপুর ব্যারেজ পরিদর্শন করে সাফ জানিয়ে দিয়ে গেছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে মঙ্গল বুধবার হয়ে যাবে। এই সময়কাল পর্যন্ত জলের সঙ্কট মেটাতে কোন পথে সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবা আর দুর্ভোগ দুই কমানো যাবে সেটাই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।
Comments
Post a Comment