পেটের তাগিদে দামোদর নদের জলে কচুরিপানা আর আবর্জনার স্তুপ সরাতে অভিনব এক আন্দোলনে স্থানীয়রা। নিঃশব্দ এই আন্দোলনে সাক্ষী রইল দুর্গাপুরবাসী।

নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=জলই এদের জীবন, পরিবারের জন্য দুই বেলা দুই মুটো অন্নের সংস্থান করে এই জল। তাই এক মায়ের বুক চিড়ে যখন আবর্জনার স্তুপ, আর কচুরিপানা বয়ে চলে তার নিজের ছন্দে তখন এরা আর চুপ করে বসে থাকতে পারেনি।

মায়ের রক্তাত্ব বুকে স্নেহের প্রলেপ দিতে আজ ওরাই নামল মায়ের কোলে, যে তাদেরকে আগলে রাখে স্নেহময়ী এক স্পর্শের আলতো বাঁধনে। দামোদর নদের আশপাশে বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে, যেখানে কম বেশী হাজার দেড়েক মানুষের বসবাস, এদের জীবিকা বলতে মাছ ধরে সেই মাছ বিক্রি করে পরিবারের মুখে অন্ন জোগানো।

কিন্তু দামোদরের সিন্গ্ধ জলে বয়ে চলেছে কচুরিপানা, আর নোংরা আবর্জনার স্তুপ।এতে করে আর মাছ আসছেনা, টান ধরেছে রুজি রোজগারে। বারবার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানানো হয়েছে, বলা হয়েছে দামোদর নদের সংস্কারের কাজ শুরু করতে, কিন্তু কেউ শোনেনি সেই কথা,

বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার নিঃশব্দে এক বিপ্লবের পথে প্রায় হাজার খানের মানুষজন। নৌকা নিয়ে তারা পৌঁছে গেল দামোদর নদের কোলে, হাত দিল নোংরা আবর্জনার স্তুপ, আর কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে।

অসিত শিকদার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলছেন, আমরা দামোদর নদের জলের সিন্গ্ধতা রক্ষার আন্দোলনে নেমেছি, কিছু লোক নদের পারে রয়েছে আর কিছু লোক নদের কোলে নৌকা নিয়ে নিঃশব্দের এই আন্দোলনে নেমেছেন।

এতেও কোনো কাজ না হলে প্রতিবাদের এই আন্দোলন অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অভিনব এক আন্দোলনে নজির তৈরী হল ডক্টর বিধান চন্দ্র রায়ের স্বপ্নের শহর দুর্গাপুরে।

Comments

Popular posts from this blog

পাহাড়কে দূষণ মুক্ত করার ডাক দিয়ে দুর্গাপুর থেকে সাইকেল করে শুশুনিয়া পাহাড় পাড়ি তরুণ ব্রিগেডের।

দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের হাত ধরে শহরের বুকে যাত্রা শুরু এম পিক্স.কমের.

দুর্গাপুর ব্যারেজে দামোদরের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী স্ত্রী।