বিভ্রাট বিদ্যুৎ বিলে, অভিযোগ বিল মেটানোর পরও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ, পড়ে সংযোগ জুড়ে দেওয়া হলেও মানসিক যন্ত্রনায় মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ দুর্গাপুরের এক শিক্ষক, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস বিদ্যুৎ দফতরের।

নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=অভিযোগ একই মাসে তিনবার তিন ধরণের বিদ্যুৎ বিল পাঠানোর অভিযোগ, মজার কথা সেই বিল মেটানোর পরও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন উন্নয়ন নিগম, শেষ পর্যন্ত পুলিশের মধ্যস্থতায় টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করার ছয় ঘন্টা পর জুড়লো বিদ্যুৎ সংযোগ, কিন্তু যেকোনো সময় ফের পড়তে হতে পারে বিড়ম্বনায়,কাজ করতে আসা বিদ্যুৎ কর্মীদের এই সতর্কবার্তায় শেষ পর্যন্ত মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হল শহর দুর্গাপুরের এক পরিবার।

আর যথারীতি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিভাগীয় তদন্ত করে দেখার আশ্বাস রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন নিগমের আধিকারিকদের। দুর্গাপুরের অভিজাত এলাকা বলে পরিচিত বিধাননগর। এখানকার আরণ্যকের বাসিন্দা নীহাররঞ্জন বিশ্বাস। স্কুল শিক্ষক নীহার বাবুর অভিযোগ,

মাত্র দিন কয়েকের ব্যাবধান এরই মধ্যে শুধু জুলাই মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ পরপর তিনটি মেসেজ আসে মোবাইলে, আর তিনটি বিল একই মাসের আর বিলের অঙ্ক তিন রকমের। যার প্রথম বিলের অঙ্ক ছিল দশ হাজার টাকার কিছু বেশী, দ্বিতীয় বিলের অঙ্কটা ছিল ষোলো হাজার টাকার কিছু বেশী আর শেষের টা ছিল ষোলো হাজার নশো টাকার একটু বেশী।

ভুতুড়ে এই বিল পেয়ে সাথে সাথে সিটিসেন্টারে বিদ্যুৎ অফিসে যান নীহাররঞ্জন বিশ্বাস, জানতে চান সমস্যাটা কোথায়, কিন্তু বিল মিটিয়ে আলোচনায় বসতে হবে বলে এই দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় এই স্কুল শিক্ষককে। ঝুঁকি না নিয়ে যাতে বিদ্যুৎ সংযোগ কোনোভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়া তার জন্য শেষের বিল অর্থাৎ ষোলো হাজার নশো টাকার কিছু বেশী অঙ্কের বিল জমা করে দেন নীহারবাবু।

কিন্তু এত কিছুর পরও শেষ রক্ষা আর হল না। নীহার রঞ্জন বিশ্বাসের অভিযোগ, কিছু লোক মিটার রিডিং নিতে এলে আমি বলি মিটার খারাপ আছে বলে তাকে জানানো হয়েছে, তাই মিটার ঠিক করে যদি আপনারা রিডিং নেন তাহলে খুব ভালো হয়,এরপর সোমবার এই সংক্রান্ত একটি অভিযোগও বিধাননগরের বিদ্যুৎ বন্টন নিগম অফিসে দিতেও গিয়েছিলেন নীহার বাবু,

কিন্তু বিল মিটিয়ে দেওয়ার পরও তার বিদ্যুৎ সংযোগ সোমবার বিকেলে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়, পুলিশের সহযোগিতায় টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে সব জানানোর পর ছয় ঘন্টা পর ফের জোড়া হয় বিদ্যুৎ সংযোগ। এখন নীহার রঞ্জন বিশ্বাসের প্রশ্ন আমরা চোর?বিদ্যুৎ বিল মেটায়নি? না চুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি? বিল মেটানোর পরও কেন বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হল তার উত্তর আর সুবিচার চেয়ে দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অনির্বান কোলের দ্বারস্থ হয়েছেন নীহার রঞ্জন বিশ্বাস,

জানালেন যেকোনো সময় আবার একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাকে কাজে আসা বিদ্যুৎ কর্মীরা জানিয়ে গেছেন, এখন ফের এই বিভ্রাটে পড়লে তারা আত্মহত্যা করবেন বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন নীহারবাবু। স্বামীর  হাইব্লাড সুগার, বিদ্যুৎ অফিসে গেলে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে,

আবার ঘরে এলেও তারা এক অজানা আতঙ্কে ভুগছেন, কেন সবকিছু মিটিয়ে দেওয়ার পরও অহেতুক এক হয়রানির মুখে পড়তে হবে তাদেরকে, এই প্রশ্ন তুলে নীহার রঞ্জন দাসের স্ত্রী শিখা  বিশ্বাস জানালেন, যদি এইভাবে তাদেরকে মানসিক যন্ত্রনা দেওয়া হয় তাহলে মৃত্যু ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন নিগমের দুর্গাপুরের স্টেশন ম্যানেজার রাজেন নন্দী জানান, কোনো কারণে হয়তো নীহার. বাবুর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, টোল ফ্রি নম্বর থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই সেই লাইন জুড়ে দেওয়া হয়েছে,

আর রইল বিলের সমস্যা, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, হতে পারে লকডাউন মাসের বিল গেছে, সেটাও যদি জমা করে দেওয়া থাকে তাহলে কেন এটা হল সেটা তদন্ত করে দেখা হবে,

কারণ অহেতুক হয়রানি করা তাদের লক্ষ্য নয়। একই মাসে তিন ধরণের তিন রকম বিল পাঠানোর অভিযোগে এখন কার্যতঃ চাপা এক ক্ষোভ জমা হয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।


Comments

Popular posts from this blog

পাহাড়কে দূষণ মুক্ত করার ডাক দিয়ে দুর্গাপুর থেকে সাইকেল করে শুশুনিয়া পাহাড় পাড়ি তরুণ ব্রিগেডের।

দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের হাত ধরে শহরের বুকে যাত্রা শুরু এম পিক্স.কমের.

দুর্গাপুর ব্যারেজে দামোদরের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী স্ত্রী।