নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে এবার দুর্গাপুরের বীরভানপুর মহাশ্মশানের কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন।বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস নগর নিগমের।
নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=রাত্রি বারোটা বাজলেই এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করে বসছে দুর্গাপুর বীরভানপুর মহাশ্মশানের কর্মীদের। আর এই নরক যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে একযোগে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল শ্মশান কর্মীরা।
রাত্রি বারোটা,ঠিক এই সময় কোভিড আক্রান্ত মৃতদেহ সৎকারের জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। আর এখান থেকেই শুরু বিপত্তি। শ্বশানের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বৈদ্যুতিক চুল্লিতে দাহ করা হয় কোভিড আক্রান্ত ব্যাক্তির মৃতদেহ, আর সেই সময় সাধারণ মৃতদেহ সৎকারের কাজ বন্ধ থাকে।
কারণ কোভিড আক্রান্ত ব্যাক্তির মৃতদেহ সৎকার হওয়ার পর পুরো শ্মশান চত্বর স্যানিটাইজড করা হয়, একই সাথে স্যানিটাইজড করা হয় শ্মশানের বৈদ্যুতিক চুল্লিও। এই পুরো প্রক্রিয়া সারতে সারতে রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে যায়, আর ততক্ষনে ধৈয্য হারিয়ে ফেলেন সাধারণ মৃতদেহ দাহ করতে আসা আত্মীয় পরিজনরা,
সব রাগটাই তখন গিয়ে পড়ে শ্বশানে কর্তব্যরত কর্মীদের ওপর,বুধবার ভোর রাতে এমনই তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার তাদের হতে হয় বলে অভিযোগ, উত্তেজিত জনতার রোষ থেকে বাঁচতে শেষ পর্যন্ত শ্মশান কর্মীরা ভেতরের একটি ঘরে ঢুকে পড়ে দরজা ভেতর থেকে লাগিয়ে দেয়।
কোকওভেন থানার পুলিশ এসে সামলায় পরিস্থিতি। বীরভানপুর মহাশ্মশানের ম্যানেজার সুখময় চক্রবর্তীর অভিযোগ, বুধবার ভোর রাতে রীতিমতো তান্ডব চালায় সাধারণ মৃতদেহ সৎকার করতে আসা এক পরিবারের লোকজন,
তান্ডবের উদাহরণ দিতে গিয়ে এই কর্মী বলেন, ভেতরে নির্দিষ্ট জায়গা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য বিধি না মেনে মৃতদেহ সৎকারের যাবতীয় আচার রীতি জোর করে শ্মশানের বাইরে মূল দরজার সামনে তারা করেন,
সকালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সব জিনিস নিজেদের হাতে করে তাদেরকে পরিষ্কার করতে হয়েছে। একই অভিযোগ এনে শ্যামল আচার্য্য নামে দুর্গাপুরের বীরভানপুর মহাশ্মশানের আরো এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অভিযোগ করেন, যারা কোভিড মৃতদেহ নিয়ে সৎকারের জন্য শ্মশানে আসছেন তারা পিপিই কিটগুলো শ্মশানের ভেতরে শবযাত্রীদের বসার জায়গায় ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে,
পরে তাদের কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেগুলো পোড়ানোর ব্যবস্থা করছে। প্রশাসন আর দুর্গাপুর নগর নিগম এখনই যদি কোনো ব্যবস্থা না নেন তাহলে প্রতিদিন চলতে থাকা এই যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে দুর্গাপুরের বীরভানপুর মহাশ্বশানের সব কর্মী একসাথে কাজ বন্ধ করে দিয়ে বসে থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দুর্গাপুর নগর নিগমের শ্মশানের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পরিষদ রুমা পাড়িয়াল জানান, অত্যন্ত অন্যায় কাজ এটা, দুর্গাপুরের মহকুমা প্রশাসন আর নগর নিগম একসাথে বসে সমস্যার সমাধান সূত্র বের করার জন্য রাস্তা খুজবেন কারণ কর্মীরা কাজ বন্ধ করে দিলে বড় ধরণের সঙ্কটের মধ্যে পড়তে হবে তাদের,
ভোগান্তি বাড়বে সাধারণ মানুষের। প্রতিদিন দুর্গাপুর মহাশ্মশানে গড়ে পনেরো থেকে কুড়ি জনের মৃতদেহ আসে, আর কোভিড আক্রান্ত মৃতদেহর সৎকার বাড়তি সংযোজন, এর মধ্যে যদি শ্মশানের সাত থেকে আট জন কর্মী কাজ বন্ধ করে দেন তাহলে ঘোর সমস্যায় পড়ে যাবে সবাই।
এখন এই সমস্যার জট খুলতে কি উদ্যোগ নেয় প্রশাসন আর দুর্গাপুর নগর নিগম সেটাই এখন দেখার বিষয়।
Comments
Post a Comment