লকডাউনে বসে না থেকে বিকল্প আয়ের সন্ধানে দিন রাত এক করে কাজ করে চলেছে কাঁকসার দেউল পার্কের কর্মীরা।

জীবন যুদ্ধের কঠিন লড়াইয়ে মনের জোরকে ভরসা করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। ওরা বলতে বুধন, সোমনাথদের কথা বলছি আমরা। পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার দেউল পার্ক। আজ থেকে মাস সাত আট আগেও বেশ চলছিল পার্ক, ছিল ট্রয় ট্রেন, ছিল নাগরদোলা ছিল নৌকা বিহারের ব্যবস্থা।করোনার ভয়ঙ্কর থাবায় আজ সব কিছুই যেন ইতিহাসের স্মৃতির পাতাতে চলে গেছে,সঙ্কটের এই সময়ে পর্যটকদের আনাগোনাও কমে গেছে,পার্কের আয় কার্যতঃ নেই বললেই চলে, তাই থমকে গেছে সবকিছু। একটা সময় দেউল পার্কের এই সাতচল্লিশ জন কর্মী দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন, ভাবছিলেন হয়তো কর্তৃপক্ষ ছাটাইয়ের কাজ শুরু করবে এবার।

কিন্তু সেই পথে না হেঁটে এবার দেউল পার্ক কর্তৃপক্ষ এক অন্য রাস্তায় হাঁটলেন। পেশা বদলে এখন পার্কের কর্মীরা দিব্যি আয় করছেন। বাঁধনহারা কাজ করার আনন্দ এদের দুই বেলা দুই মুটো অন্নের সংস্থান করছে। বুধন রুইদাস। পার্কে যখন পর্যটক আসতো তখন বুধন ট্রয় ট্রেন চালাতো, আবার সোমনাথ রক্ষিত,যখন দেউল পার্কে পর্যটকদের ঢল নামতো তখন পার্কের রক্ষনাবেক্ষনের কাজ করতো, কিন্তু আজ এরা অত্যাধুনিক মানের যন্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি, হাঁস, ছাগল প্রতিপালন করছে, মাছ চাষও করছে এই পার্কের লেকের জলে। মাস কয়েক ধরে এখন বুধন সোমনাথদের মতো দেউল পার্কের বাকি কর্মীরা কাজ করে চলেছে,

বদলে ফেলেছে কাজের ধরণ আর সবটাই হয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার জন্য। দামি অত্যাধুনিক মানের এই পশু প্রতিপালন যন্ত্র এদের কিনে দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ, যা দিয়ে এই কর্মীরা দিব্যি কাজ করছে। দেউল পার্ক কর্তৃপক্ষের তরফে প্রশান্ত মন্ডল জানালেন, বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি হাঁস ছাগল এমনকি মাছ বিক্রি করে আয়ের বিকল্প একটা রাস্তা বের করেছি আমরা,এখনই কিন্তু লাভের মুখ দেখার কথা ভাবছি না আমরা, কিছু ভুতুর্কি দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু পার্কের সাতচল্লিশ জন কর্মীর কাজের অদম্য চেষ্টা দেখে আমরা অভিভূত আর নিচ্ছিত লাভের মুখ দেখবোই আমরা, পার্ক আবার চেনা ছন্দে ফিরলেও পাশাপাশি বিকল্প এই আয়ের এই রাস্তা আমরা ছাড়বো না এমনটাই বললেন প্রশান্ত বাবু। ট্রয় ট্রেনের সেই চেনা আওয়াজ আজ আর নেই, নেই পর্যটকের ঢল, কিন্তু ট্রয় ট্রেন চালক বুধন রুইদাস বলছেন, মনটা খারাপ লাগে ঠিকই কিন্তু পেশা বদলে ট্রেনের স্টিয়ারিং ছেড়ে অত্যাধুনিক মানের যন্ত্র চালিয়ে বেশ লাগছে,

আর তার থেকেও বড় কথা পরিবারের মুখে দুই বেলা দুই মুটো ভাত তুলে দিতে পারছি এই সঙ্কটের সময় এর চেয়ে আর বড় পাওয়া আর কি হতে পারে বলে বুধন বাবু জানালেন। করোনার রক্তচক্ষু রুখতে আজ লকডাউনে স্তব্ধ হয়ে গেছে সবকিছু। সঙ্কটের এই কঠিন সময়ে যখন কাজ হারিয়ে বসে আছে অনেকে,
বারবার খবরের শিরোনামে আসছে কর্মী ছাটাই আর জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়ার অনেক কিছু, ঠিক তখন পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার দেউল পার্ক বিকল্প আয়ের রাস্তা বেছে নিয়ে দেখিয়ে দিল মনের জোর আর ইচ্ছা শক্তি থাকলে অনেক কিছু অসম্ভবকেও সম্ভব করে দেখিয়ে দেওয়া সম্ভব।
Comments
Post a Comment