ডিপিএলে ভুয়ো নিয়োগপত্র নিয়ে কাজ করতে আসার ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকায় ছেড়ে দেওয়া হল একজনকে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কেন অভিযোগ দায়ের করল না প্রশ্ন রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দলের, মানবিক হওয়ার চেষ্টা করেছি বললো কর্তৃপক্ষ।

নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=ডিপিএলে ভুয়ো নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরি করতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়ে যায় বেশ কয়েকজন।

এরা বাঁকুড়ার ধলডাঙ্গা থেকে দুর্গাপুরে চাকরির জন্য এসেছিল। ডিপিএল কর্তৃপক্ষ ভুয়ো নিয়োপগপত্র বুঝতে পেরে পুলিশকে ডাকে, পুলিশই এদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এই পুরো ঘটনায় উঠে আসে বাপ্পা সিটের নাম, এক চাকরিপ্রার্থী অভিযোগ করেছিল এই বাপ্পা সিটই তাদেরকে ডিপিএল কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে এই নিয়োগপত্র দিয়েছিল আর শুক্রবার সকালে কাজে যোগ দিতে এসে তারা জানতে পারে দুটি ব্যাপারই মিথ্যে আর ভুয়ো।

পুলিশ এরপর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে বাপ্পাকে,শনিবার তাকে পুলিশ ছেড়েও দেয়। কোকওভেন থানার আধিকারিক মনোজিৎ ধারা জানিয়েছেন, মানসিক অবসাদে ভুগছে বাপ্পা,ছয় মাস ধরে তার চিকিৎসাও চলছে, দুর্গাপুরের মুচিপাড়া শিবপুর রোডের ওপর থাকা একটি কলেজ থেকে বিটেক পাশও সে করেছে বলেও কোকওভেন থানার পুলিশের এই আধিকারিক জানান।

এলাকার মানুষের কাছে গুরুত্ব পেতেই সে এই কাজ করেছিল, কিন্তু কোনো টাকা পয়সার লেনদেন ছিল না এই গোটা ঘটনায় সেই ব্যাপারে নিচ্ছিত হয়েই বাপ্পা সিটকে পুলিশ ছেড়ে দেয় বলে কোকওভেন থানারআধিকারিক মনোজিৎ ধারা জানান। আর এইখান থেকেই শুরু বিতর্ক। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিশ্বনাথ  পারিয়ালের প্রশ্ন যখন ডিপিএল কর্তৃপক্ষ হাতে নাতে সব কিছু পুলিশকে ধরিয়ে দিতে পারলো ঠিক তখন,

এই একই তৎপরতা কেন দেখা গেল না থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে,তাহলে তো অন্ততঃ আসল ঘটনা সবাই জানতে পারতো। সিপিআইএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ মানসিক অসুস্থ এক জনের প্রতি মানবিকতা দেখিয়েছে এটা প্রশংসার দাবী রাখে, কিন্তু হোমে রেখেও তো এই বিটেক পাশ ছাত্রকে ছেড়ে না দিয়ে আরো একটু সময় নিয়ে তৎপরতা দেখাতে পারতো পুলিশ,

আর কেনই বা ডিপিএল কর্তৃপক্ষ সব কিছু জেনে বুঝেও থানায় একটাও লিখিত অভিযোগ করল না সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না বলে পঙ্কজ বাবু জানান। এই দিকে এই টানাপোড়েনে এখন অনেকে এও প্রশ্ন করছেন বড় কোনো রাঘব বোয়াল নেই তো এর পেছনে? এই সব প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে। দুর্গাপুরের বিধায়ক বিশ্বনাথ পারিয়াল জানিয়েছেন,

ঘটনা দুর্ঘটনা যাই ঘটতো ডিপিএল কর্তৃপক্ষকেই তো সব দায় নিতে হতো, তাহলে কেন তারা থানায় একটা লিখিত অভিযোগ করার ব্যাপারে একটু তৎপরতা দেখালো না। দুর্গাপুর প্রজেক্ট লিমিটেডের মুখ্য জন সংযোগ আধিকারিক স্বাগতা মিত্র জানিয়েছেন, এইভাবে কোনো নিয়োগ হয়না ডিপিএলে,

তাই এসব ভুয়ো ঘটনার ফাঁদে কেউ যেন পা না দেন, কারণ সংস্থার নিজের ওয়েবসাইটে শূন্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় এখনও চাপা একটা উত্তেজনা রয়েছে শিল্পাঞ্চলে।

Comments

Popular posts from this blog

পাহাড়কে দূষণ মুক্ত করার ডাক দিয়ে দুর্গাপুর থেকে সাইকেল করে শুশুনিয়া পাহাড় পাড়ি তরুণ ব্রিগেডের।

দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের হাত ধরে শহরের বুকে যাত্রা শুরু এম পিক্স.কমের.

দুর্গাপুর ব্যারেজে দামোদরের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী স্ত্রী।