ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাদের জন্য চুলদান করলেন দুর্গাপুরের এক শিক্ষিকা.
নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=বছর দেড়েক আগে কোনো টিভি চ্যানেলে দেখেছিলেন ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাদের জন্য চুলদান করছে কোনো এক কিশোরী. আর অনুপ্রেরণার শুরুটা এখান থেকেই. যে মেয়েটি নিজের সৌন্দয্য ঠিকঠাক রাখার জন্য চুলের রকমারি স্টাইল করতেন, সেই মেয়েটি ছোটো চুল রাখার ফ্যাশন ছেড়ে দিয়ে চুল রাখার নিয়মে বাঁধলেন নিজেকে.
মহুয়া ভট্টাচার্য্য. দুর্গাপুরের বিধাননগরের গ্রুপ হাউসিং কলোনির মহুয়া ভট্টাচার্য্য জানালেন, ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলারা কেমো নেওয়ার পর চুল পড়ে যায় তাদের, যাদের টাকা পয়সা আছে তারা টাকা খরচা করে পরচুলা কিনে নেয়,
কিন্তু যারা আর্থিকভাবে দুর্বল তাদের কোনো উপায় থাকেনা, এইটা তাকে খুব কষ্ট দিয়েছিল আর সেই ভাবনা থেকেই চুল দানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি.প্রথমে বাংলার বিভিন্ন সংস্থার সাথে চুলদানের জন্য যোগাযোগ করেন, কিন্তু করোনা আবহে কোনো সংস্থা সেইভাবে আগ্রহ না দেখানোয় শেষ পর্যন্ত ওয়েবসাইট ঘেটে চেন্নাইয়ের একটি সংস্থার সাথে যোগাযোগ করেন বেসরকারী এক ইংরাজী মাধ্যম স্কুলের শিক্ষিকা মহুয়া ভট্টাচার্য্য.
চেন্নাইয়ের এই সংস্থার শর্ত ছিল কোভিড আবহে তারা নমুনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট দেখার পরই অনলাইনে চুল সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু করবেন, এরপর মহুয়া দেবী কোভিড পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট পাঠানোর পরই স্পিড পোস্ট মারফত সেই চুল সংগ্রহ করে.ছেলেবেলা থেকেই দুর্গাপুরের মহুয়া ভট্টাচার্য্য রক্তদান, দুঃস্থদের বস্ত্রদান থেকে শুরু করে আরো নানা সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে রেখেছিল, যে ধারা জারি রেখেছেন এখনও, গাছ লাগানো যেমন তার নেশা ঠিক তেমনি বাচিক শিল্পী হিসেবে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, কথা বলতে গিয়ে বেসরকারী ইংরাজী মাধ্যম স্কুলের এই শিক্ষিকা জানালেন,

স্বামীকে তিনি বলে রেখেছিলেন যদি কোভিড পরীক্ষায় পজিটিভ আসে তাহলেও, যদি সম্ভব হয় পরচুলা তৈরীর জন্য যেন তার চুল মৃত্যুর পর দান করা হয় ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাদের জন্য.কেমো নেওয়ার পর চুল উঠে যায়, আর যারা আর্থিকভাবে দুর্বল পরচুলা কেনার সামর্থ্য নেই তাই বিনা পয়সায় তারা যদি এই পরচুলা পায় সেটার চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু হতে পারেনা,
Comments
Post a Comment