আত্মসমালোচনার সুরে দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য শহর দুর্গাপুরের তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের।

নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=আমাদের কোনো ক্লাস নেই, কে ভালো কে মন্দ এর কোনো ভেদাভেদ নেই আজ, আর তাই সবাই মিলে মিশে একাকার আমরা। গত দুর্গাপুর নগর নিগমের ভোটে আমরা এই সাহসও দেখাতে পারিনি তেতাল্লিশটা আসনের মধ্যে তেরোটা আসন বিরোধীদের ছেড়ে দিয়ে কাজের প্রতিযোগীতাতে নামার ,

তাহলে অন্ততঃ শহরের মানুষের কাছে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ভালো কাজ করে মাথা উঁচু করে বলতে পারতাম দেখুন যা ওরা পারেনা তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় আমরা করতে পারি।

আত্মসমালোচনা করতে গিয়ে দল সম্পর্কে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন,পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নব নিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।

দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে দূর্গাপুর নগর নিগমের চার নম্বর বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের দল সম্পর্কে এই তির্যক মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

গত দুর্গাপুর নগর নিগমের ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধী দলগুলির তির্যক আর সমালোচনার মন্তব্য খুব চেনা ছন্দের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ছিল, কিন্তু এবার খোদ রাজ্যের শাসক দলের নব নিযুক্ত এক জেলা পদাধিকারীর নিজের দল সম্পর্কে এমন মন্তব্যে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়ে গেছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার রাজনৈতিক মহলে।

রবিবারের এই আলোচনাসভায় দলের পশ্চিম বর্ধমান জেলার কোঅর্ডিনেটর বিশ্বনাথ পারিয়াল, দুর্গাপুর নিগমের মেয়র পরিষদ ধর্মেন্দ্র যাদব, পশ্চিম বর্ধমান জেলার আরো এক সম্পাদক আইনজীবী দেবব্রত সাইঁ সবাই উপস্থিত ছিলেন, আর সেই মঞ্চেই শহরের এই দাপুটে নেতা দল সম্পর্কে এই অভিযোগ করেন,

চন্দ্রশেখর বাবু বলেন,এক লিটারের বোতলে আমরা জোর করে ১.৫ লিটার জল ঢুকিয়েছি, ভেবেছি নো প্রবলেম সব কিছু অল রাইট,আর যার খেসারত আজ দিতে হচ্ছে আমাদের। দলের সেই সময়কার পর্যবেক্ষক আর নেতৃত্বের প্রতি এক দাপুটে যুব নেতার এমন মূল্যায়নভিত্তিক তির্যক আক্রমণে  প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত দলীয় কর্মীরা হাততালি দিতে শুরু করে দেন।

চন্দ্রশেখর বাবু বলেন, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্যাগ, আদর্শ আর একার ক্ষমতায় চৌত্রিশ বছরের একটা জগদ্দল দলের পাথরকে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভুলে গেছি, শুধু করে কম্মে খাবো এই ভাবনা নিয়েই দলে থেকে ইচ্ছে করে দলের ক্ষতি করছি,নেত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছি,বদনাম করছি সরকারকে,

অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বাংলায় যে উন্নয়ন করেছে গোটা দেশে এটা নজির, বিশ্বে সমাদৃত হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রকল্পের নাম, আর আমরা এখানে নেত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার খেলায় মত্ত হয়ে উঠেছি। দুর্গাপুর নগর নিগমের চার নম্বর বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক মন্তব্য,বিজেপি সিপিআইএম, কংগ্রেস নয়,দলের কিছু দুর্নীতিপরায়ন লোকের জন্য মানুষ আমাদের ভালো চোখে দেখছেন না,মুখ 

ফিরিয়ে নিচ্ছে আমাদের থেকে।তাই রাজ্য জুড়ে আমাদের জামানায় এত  ভালো কাজ হওয়া সত্ত্বেও আমরা ভোটের লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছি, আর যার প্রমান লোকসভা নির্বাচনে দুর্গাপুরে আমাদের হার, এইভাবে চলতে থাকলে পরিনাম অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হবে বলে তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন,এরপর মঞ্চে বলতে ওঠেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্যতম আরো এক সাধারণ সম্পাদক পুরপিতা দেবব্রত সাইঁ।

কর্মীদের উদেশ্যে এই তৃণমূল নেতা বলেন, কিছু দুর্নীতিপরায়ণ স্বার্থপর লোকের জন্য মানুষ দেবব্রত সাইঁকে আর সহ্য করতে পারছেনা,অথচ দেবব্রত সাইঁ ওয়ার্ডে ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছে,এমনকি নিজের পকেটের টাকা খরচা করে রাস্তায় অত্যাধুনিক লাইট লাগিয়েছে, স্বর্গীয় বাবার নামে বিনামূল্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা শুরু করেছি শুধু নিজের ওয়ার্ড নয়,সবকটি ওয়ার্ডের মানুষের যাতে কাজে লাগে, কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে ৯০০ভোটে পিছিয়ে আমি,

কিন্তু কেন? দেবু সাইঁ সেই মূল্যায়ন শুরু করেছে,কিন্তু কেউ কেউ সেই আত্মসমালোচনা না করে নেত্রীর ছবি সামনে রেখে ভোট বৈতরণী পার করার চেষ্টা করছে। এইদিন দুর্গাপুর নগর নিগমের এই পুরপিতা স্পষ্ট বার্তা দেন, কিছু পাওয়ার আশায় দল করতে আসবেন না, মন থেকে আসুন, মান অভিমান যা থাকবে খোলা মনে আলোচনা করুন, আর চায়ের দোকানে বসে নেত্রীর আর দলের মুণ্ডুপাত না করে আমাদের ভালো কাজের দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করুন,

বলুন বিজেপির ভুলের আর জনবিরোধী নীতির কথা, দেখবেন আবার একটা নুতন ভোরের আলোর পথে হাঁটছি আমরা।একুশে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘরোয়া এক আলোচনায় দলের নেতৃত্বের প্রতি শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের নেতৃত্বের একাংশের এমন বিস্ফোরক কিছু মন্তব্যে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক মহলে। এখন এই ক্ষোভ বিক্ষোভ সামলে দুর্গাপুরের দুটি আস জয় পাওয়ার জন্য দলীয় রনকৌশল ঠিক কি হয় সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

Comments

Popular posts from this blog

পাহাড়কে দূষণ মুক্ত করার ডাক দিয়ে দুর্গাপুর থেকে সাইকেল করে শুশুনিয়া পাহাড় পাড়ি তরুণ ব্রিগেডের।

দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের হাত ধরে শহরের বুকে যাত্রা শুরু এম পিক্স.কমের.

দুর্গাপুর ব্যারেজে দামোদরের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী স্ত্রী।