বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবী, রাস্তা খারাপ হলেও টোল আদায় নিয়ে বিতর্ক।বেহাল রাস্তা সংস্কার নিয়ে টানাপোড়েন দুর্গাপুরে।

নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=দুর্গাপুরের ঊনত্রিশ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন সগরভাঙ্গাতে রয়েছে বনফুল সরণির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। মূলতঃ সগরভাঙ্গা কলোনির ভেতর থাকা বেসরকারী কারখানাগুলোর পণ্যবাহী গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে।

কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় ধরে এই রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে, খানা খন্দে ভরা এই রাস্তায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ উঠেছে ওভারলোডেড পণ্যবাহী গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করাতেই রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা বেড়িয়ে এসেছে।

মজার কথা হলো রাস্তা খারাপ হলেও নিয়মিত টোল ট্যাক্স আদায় হচ্ছে। দুর্গাপুর নগর নিগম থেকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থাকে।

এখানেও রয়েছে বিস্তর বিতর্ক। দুর্গাপুর নগর নিগমের চার নম্বর বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন বোর্ড মিটিংয়ে কোনোরকম আলোচনা ছাড়াই কিভাবে টোল আদায়ের পুরোনো এজেন্সির মেয়াদ তিন বছরের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হল,

একই সাথে চন্দ্রশেখর বাবুর প্রশ্ন যখন এই রাস্তায় টোল আদায় নিয়মিত হচ্ছে টোল আদায় যখন হচ্ছে তখন রাস্তা সংস্কারের জন্য কেন সেই এজেন্সির কোনোরকম ভূমিকা থাকবে না? এ. ডি. ডি. এর কাছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই রাস্তার মেরামতির বরাত দেওয়ার জন্য দাবী জানিয়েছেন তিনি,

কিন্তু বেহাল এই  রাস্তায় প্যাচ ওয়ার্ক করা যাবে না, তাই স্থায়ী মেরামতের জন্য তিনি এ. ডি. ডি. এ কে জানিয়েছেন, আর সেই ক্ষেত্রে টাকার অঙ্কটাও অনেক, একটু সময় লাগছে ঠিকই কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি এই রাস্তার কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে চার নম্বর বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন।

দুর্গাপুরের মহানাগরিক দিলীপ অগস্থি জানালেন, নিয়ম মেনেই সব কাজ হয়েছে, ফিনান্সিয়াল এজেন্সী তদন্ত করে দেখুক যদি টোল ট্যাক্স এজেন্সীর টেন্ডারের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে। দুর্গাপুরের মহানাগরিক দিলীপ অগস্থিও জানান, এ. ডি. ডি. এ কে চিঠি করা হয়েছে এই রাস্তা সংস্কারের জন্য।

দুর্গাপুর নগর নিগমের টোল ট্যাক্স আদায়কারী সংস্থার এক আধিকারিককে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি সেই ফোন তোলেননি। একদিকে টেন্ডার বিতর্ক আর অন্যদিকে নিয়মিত টোল ট্যাক্স আদায় হলেও রাস্তার বেহাল করুন অবস্থা এই দুইয়ের মাঝে পড়ে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও সাধারণ মানুষ। রঞ্জিত তাঁতি নামে এক লরির চালক জানিয়েছেন,আমরা টোল আদায়কারী সংস্থাকে বলেছি রাস্তা যখন এত খারাপ তখন টোলের টাকা দেব কেন?

উত্তরে টোল আদায়কারী সংস্থার কর্মীরা জানিয়েছেন, তাহলে এই রাস্তায় গাড়ি ঢোকানো যাবে না, আর অন্যদিকে সাধারণ পথ চলতি মানুষ বলছেন, বেহাল এই রাস্তায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে,আর এরপর যখন বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে

তখন সবাই নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে,ক্ষতি যা হওয়ার সেটা ছা পোষা সাধারন মানুষের হবে। এখন দেখার বিষয়, রাস্তা মেরামতির কাজ কবে শুরু হয়, কবে নিত্য দিনের নরক যন্ত্রনা মুক্তি পায় সাধারণ মানুষ।

Comments

Popular posts from this blog

পাহাড়কে দূষণ মুক্ত করার ডাক দিয়ে দুর্গাপুর থেকে সাইকেল করে শুশুনিয়া পাহাড় পাড়ি তরুণ ব্রিগেডের।

দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের হাত ধরে শহরের বুকে যাত্রা শুরু এম পিক্স.কমের.

দুর্গাপুর ব্যারেজে দামোদরের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী স্ত্রী।