অধরা বহিরাগত দুষ্কৃতীরা প্রতিবাদে দুর্গাপুরে কারখানার সামনে শ্রমিক বিক্ষোভ, কর্তৃপক্ষকে ঘিরে ধরে ক্ষোভ, পুলিশ দুই দিনের মধ্যে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার না করলে পরিবার পরিজন নিয়ে থানা ও কারখানার সামনে বসে পড়ার হুমকি শ্রমিকদের
এক ক্যান্টিন মালিককে কারখানার ভেতর ঢুকে ব্যাপক মারধর করে বহিরাগত কিছু দুষ্কৃতী।কারখানার ভেতর থাকা ক্যান্টিন মালিকের অপরাধ ছিল বিনা পয়সায় খাওয়ার দিতে হবে আর সেটা দিতে ক্যান্টিন মালিক অস্বীকার করায় নজিরবিহীনভাবে বহিরাগত কিছু দুষ্কৃতী কারখানার ভেতর ঢুকে লোহার খুন্তি, কড়াই ও গামলা দিয়ে মারধর করে,
অভিযোগ উঠেছে গরম ডাল ছুঁড়ে দেওয়া হয় ক্যান্টিন মালিকের দিকে। গত বারো তারিখ এই ঘটনা ঘটলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কোকওভেন থানায় বেশ কয়েকজনের নামে অভিযোগ জানানোর পরেও কেন এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হল না সেই প্রশ্ন তুলে বেসরকারী কারখানার সামনে শুক্রবার সকালে বিক্ষোভে সামিল হয় শ্রমিকরা,
কর্তৃপক্ষকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভও দেখায় শ্রমিকরা, তাদের দাবী ছিল পুলিশের গড়িমসি, আর কারখানা কর্তৃপক্ষের গা ছাড়া মনোভাবে অভিযুক্তরা বিন্দাস ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ কেউ আবার ডিউটিও করছে।সগরভাঙার বেসরকারী ঐ কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে দুর্গেশ পান্ডে জানিয়েছেন,
সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে পাঠানো হয়েছে এরপর প্রশাসন নিজের মতো করে কাজ করুক। কিন্তু কর্তৃপক্ষের তরফে দেওয়া এই আশ্বাসে কাজ হয়নি উত্তেজিত শ্রমিকদের, তারা এই অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে চলে আসেন কোকওভেন থানায় দাবী জানতে থাকেন কোন রহস্যময় কারণে এখনও অধরা অভিযুক্তরা.
দুষ্কৃতীদের তান্ডবে জখম নিত্যানন্দ রজকের দাদা গৌর রজকের অভিযোগ, পুলিশ আর কারখানা কর্তৃপক্ষ যোগসাজশ হয়ে কাজ করছে, নাহলে কোন সাহসে অভিযুক্তরা এখনও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর দাদা এখনও বিছানায় শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে.
পুলিশ আর কারখানা কর্তৃপক্ষের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক তথা আই. এন. টি. টি. ইউ. সি র পশ্চিম বর্ধমানের সভাপতি বিশ্বনাথ পাড়িয়াল। এই শ্রমিক নেতার অভিযোগ, কিছু তোলাবাজ আর কারখানা কর্তৃপক্ষের একাংশ সব জেনে বুঝেও নিজের মতো করে সমান্তরাল প্রশাসন চালাচ্ছে
আর পুলিশকে বলা সত্ত্বেও অভিযোগ জানানো হলেও কেন এখনও অধরা দুষ্কৃতীরা সেটাই বুঝে ওঠা যাচ্ছেনা, একই সাথে বিশ্বনাথবাবু বলেন, কারখানায় অচলাবস্থা তৈরী হোক চাইনা আমরা কিন্তু সাথে কর্তৃপক্ষ আর কিছু তোলাবাজদের অশুভ আঁতাত ও মানবো না আমরা।
পুলিশ দুষ্কৃতীদের ধরতে দুই দিন সময় চেয়েছে, আর শ্রমিকরা জানিয়ে দিয়েছে এই দুই দিনেও যদি কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা না দেখা যায় তাহলে তিন দিনের দিন তারা পরিবার পরিজন নিয়ে কোকওভেন থানার এসে বসে পড়বো
একই সাথে সগরভাঙার ঐ বেসরকারী কারখানার সামনে অবস্থানে বসবে এই শ্রমিকরা। সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় শুক্রবার সকাল থেকে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে কারখানা চত্বরে।
Comments
Post a Comment