নজিরবিহীনভাবে কারখানার ভেতরে ঢুকে তান্ডব চালালো দুষ্কৃতীরা, গুরুতর জখম এক। নিরাপত্তার দাবী জানিয়ে শ্রমিক বিক্ষোভ কারখানার গেটে। উত্তেজনা দুর্গাপুরে।
নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=নজিরবিহীন ভাবে কারখানার নিরাপত্তাবেষ্টনী টপকে ভেতরে ঢুকে দুষ্কৃতী তান্ডবের ঘটনা ঘটলো দুর্গাপুরের এক বেসরকারী কারখানায়।
শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে কোকওভেন থানার অন্তর্গত সগরভাঙার বেসরকারী এক কারখানায়। অভিযোগ দুষ্কৃতীরা ভেতরে ঢুকে কারখানার ভেতরে থাকা এক ক্যান্টিনের মালিককে লোহার খুন্তি কড়াই গামলা দিয়ে ব্যাপক মারধর করে,
তছনছ করে দেওয়া হয় ক্যান্টিন ঘর। নিত্যানন্দ রজক নামে ঐ ক্যান্টিন মালিকের অপরাধ ছিল খাবারের জন্য টাকা চাওয়া। বেশ কয়েকদিন আগে থেকে অশান্তির সূত্রপাত। খাওয়া দাওয়া করার পর টাকা দিতে অস্বীকার করতো এক শ্রমিক।
কিসের টাকা এই প্রশ্ন তুলে প্রায় দিন এই অশান্তি চলতো যা চরমে পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার লকডাউনের দিন, সেদিনই সমস্যা মিটে গেলেও ফের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় শনিবার রাতে। অভিযোগ বহিরাগত কিছু দুষ্কৃতী সগরভাঙার ঐ বেসরকারী কারখানার ভেতর ঢুকে ব্যাপক তান্ডব শুরু করে দেয়, ভাংচুর করা হয় ক্যান্টিন ঘর, ব্যাপক মারধর করা হয় ক্যান্টিন মালিক নিত্যানন্দ রজককে এমনকি গরম ডাল তার দিকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার সকালে নিজেদের নিরাপত্তার দাবী জানিয়ে কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভে সামিল হয় শ্রমিকরা, তাদের প্রশ্ন ছিল কিভাবে বহিরাগতরা কারখানার ভেতরে ঢুকে এই তান্ডব চালালো মারধর করা হল একজনকে?
এইদিকে এই ঘটনার জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় শ্রমিক মহলে। আরো অবাক করা ঘটনা হল কোনো হাসপাতাল রক্তাত্ব অবস্থায় থাকা নিত্যানন্দ রজককে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়।
সিপিআইএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার দাবী করেছেন, আহত নিত্যানন্দ রজক তাদের দলের সক্রিয় কর্মী, আর এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের শাসক দলের প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব , প্রশ্ন তোলেন কিভাবে একজন মুর্মূষু রুগীকে দুর্গাপুরের কোনো হাসপাতাল ভর্তি নিল না এমনকি সরকারী হাসপাতালও এই অভিযোগের কাঠগড়ায় এল। 
গুরুতর জখম নিত্যানন্দ রজক তাদের দলের কর্মী বলে দাবী করেছে বিজেপি নেতৃত্ব, দলের জেলা নেতা অমিতাভ ব্যানার্জীর দাবী দুর্গাপুর শহরের রজক পরিবারের সবাই এখন বিজেপির মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে তাদের সাথে এসেছে।
এইদিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেছেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা আই. এন. টি. টি. ইউ. সি র জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পড়িয়াল,রাজ্যের শাসক দলের এই শ্রমিক নেতা জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষকে আইনমাফিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে,
পুলিশ প্রশাসনকেও কারখানার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে দেওয়া হয়েছে, কারণ কারখানার ভেতর গুন্ডাগিরি সে যে দলেরই হোক কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে বিশ্বনাথ বাবু সাফ জানিয়ে দেন।
তবে নজিরবিহীন ভাবে বহিরাগতরা কারখানার ভেতর ঢুকে যেভাবে তান্ডব চালালো তাতে শ্রমিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন.সগরভাঙার বেসরকারী ঐ কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনোরকম প্রতিক্রিয়া দিতে রাজী হয়নি, ফোন ধরার সামান্য সৌজন্যবোধটুকুও দেখাননি কারখানা কর্তৃপক্ষ।
Comments
Post a Comment