কর্মজীবনের প্রথম দিনেই কারখানার ভেতরে তড়িতাহত হয়ে মৃত্যু হলো দুর্গাপুরের রাহুলের.
নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=বাবু আর ফিরবে না. এক মা সন্তান হারানোর এক প্রবল যন্ত্রনায় ছটফট করছে,সবার অজান্তে কখন যে মায়ের স্নেহময়ী কোল ফাঁকা হয়ে গেছে সেটা বুঝতেও পারেনি সেই গর্ভধারিণী মা.
দুর্গাপুরের ডিটিপিএস কলোনির বছর আঠারোর রাহুল ঘোষ. বাবা যখন যেমন কাজ পায় তখন তেমন করেন, আর দাদার আয়ের ওপরই চলে গোটা সংসার. উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করতে না পেরে অঙ্গদপুর হাইস্কুলের এই ছাত্র চ্যালেঞ্জ নিয়ে বসেছিল যেভাবেই হোক সংসারের অভাবের দানবটা কে হার মানাতেই হবে.
তাই পরিবারের কাউকে কিছু না বলেই পাড়ার এক ব্যাক্তির কাছে কাজের সন্ধান পেয়ে মঙ্গলবারই অঙ্গদপুর রাতুড়িয়া শিল্পতালুকের একটি কারখানায় কাজে যায় সে. দুপুরে প্রবল বৃষ্টি চলাকালীন রঙের কাজ করতে গিয়ে কারখানার ভেতরেই তড়িতাহত হয়ে মৃত্যু হয় রাহুলের.
প্রথম দিনে কাজ সেরে ঘরে ফিরে সবাইকে চাকরি পাওয়ার আনন্দে তাক লাগিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ছেলেটির, কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে সেই ছেলেটির নিথর দেহ বের হল কারখানার ভেতর থেকে, শেষ হল জীবন যুদ্ধের প্রথম লড়াই.
রাহুলের মা কাজল ঘোষ বলছেন,কাজের কথা কখনো বলিনি ওকে, কিন্তু ও কেন সবকিছু গোপন করে গেল সেটাই বুঝতে পারলাম না আমি.
রাহুলের বন্ধুরা বলছেন টানা এক মাস কাজ করার পর বেতন না পেয়ে আমরা সোমবারই কাজ বন্ধ করে দি, কিন্তু পরিবারের আর্থিক টান থাকায় রাহুল কম টাকাতেই কাজ করতে যায় সেখানে আর যার নির্মম পরিণতি এই মৃত্যু.
বুধবার সকালে পশ্চিম বর্ধমান জেলা আই. এন. টি. টি. ইউ. সির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি বিশ্বনাথ পড়িয়াল যান রাহুলের পরিবারের সাথে কথা বলতে,জানান সমবেদনা, দেন ক্ষতিপূরনের প্রতিশ্রুতি.কিন্তু এরপর? জানা নেই উত্তরটা. এক মা তার স্নেহময়ী কোল ফাঁকা হয়ে যাওয়ার প্রবল যন্ত্রনায় ছটফট করছেন. এইরকম অনেক রাহুল নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে,যারা শুধু সংসারের আর্থিক অনটনের অভাবের দানবটার সাথে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাচ্ছে আজও,

এদের কেউ যায় হারিয়ে আবার কেউ বা হাজারো ভিড়ের মাঝে যন্ত্রনায় ছটফট করলেও এদের আওয়াজ পৌঁছোয় না সমাজের কোনো স্তর পর্যন্ত,শুধু দুই চোখ বেয়ে এদের বয়ে যায় না পাওয়ার যন্ত্রণার জল.
Comments
Post a Comment