অত্যাধুনিক মানের প্রযুক্তির ওপর আস্থা রেখেও, বিকল্প ভাবনায় ছাত্র ছাত্রীদের মেধার মান যাচাইয়ের অভিনব রাস্তায় হাঁটলো দুর্গাপুরের এম. এ. এম. সি টাউনশিপ মডার্ন হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ.

নিউজ বেঙ্গল দুর্গাপুর=করোনা সংক্রমনের জেরে জারি হয়েছে লকডাউন. আর এর দরুন বন্ধ স্কুল কলেজ সবকিছু . কিন্তু তা বলে তো শুধু থেমে থাকলে হবে না. বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্কুলগুলিতে শুরু হয়েছে অনলাইনে শিক্ষাদান প্রদ্ধতি.

কিন্তু প্রশ্ন এসেছিল,যাদের কাছে অত্যাধুনিক মানের ফোন সেট নেই তারা কি করবে? বঞ্চিত থাকবে এই সুবিধা থেকে? আবার এই প্রশ্নও এসেছে অনলাইনে দিদিমনি মাস্টারমশাইরা না হয় পড়িয়ে দিছেন, কিন্তু ছাত্র ছাত্রীরা ঠিকঠাক সব বুঝতে পারছে তো?কোথাও কোনো খামতি রয়ে যাচ্ছে না তো? এই দুই সমস্যার সমাধান করল দুর্গাপুরের  এম. এ. এম. সি টাউনশিপ   মডার্ন হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ. আর এই অসম্ভব কাজটা সম্ভব হল শুধুমাত্র স্কুল কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার জন্য.মডার্ন হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের নুতন ভাবনায় অনলাইন আর অফলাইনের যাবতীয় দূরত্ব সরে গেল.স্কুল কর্তৃপক্ষ ঠিক করল প্রি নার্সারি থেকে দ্বাদশ শ্রেণী, প্রতি মাসে পরীক্ষা নেওয়া হবে ছাত্র ছাত্রীদের.প্রশ্ন পত্রের সেট দেওয়া থাকবে স্কুলের নোটিস বোর্ডে.

অভিবাবকরা আসবেন, সরকারী বিধি নিষেধ মেনে সেই প্রশ্ন পত্রের সেট  লিখে নিয়ে ঘরে গিয়ে ছেলে মেয়েদের পড়াবেন. এর ঠিক সাত দিন পর ঘরে বসেই পরীক্ষা দেবে ছাত্র ছাত্রীরা, আর পরীক্ষা হলের গার্ডের মতো মাস্টারমশাইদের সেই দায়িত্ব অভিবাবকরাই ঘরে থেকে পালন  করবেন,

দেখবেন কোনো অসৎ উপায় অবলম্বন করে যাতে এই সুন্দর সিস্টেম টা  কেউ নষ্ট করে না দেয়. নির্দিষ্ট সময় পর অভিবাবকরাই ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে খাতা নিয়ে নেবেন, আর যত্ন করে প্রতিটি বিষয়ের সেই খাতা সাজিয়ে গুছিয়ে আবার স্কুলে এসে জমা করে দেবেন.স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিনব এই ব্যাবস্থায় খুশী অভিবাবকরা,তারা বলছেন এইরকম একটা সিস্টেমে তারা অভ্যস্থ ছিলেন না ঠিকই, কিন্তু যে সিস্টেমে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে তার তুলনা হয়না, এর চেয়েও বড় কথা যাদের অত্যাধুনিক মানের মোবাইল সেট নেই তাদের মনের যাবতীয় দুঃখ কষ্ট দ্বিধা দ্বন্দ্ব সবটাই কেটে গেছে নুতন এই প্রদ্ধতিতে.

দুর্গাপুর এম. এ. এম. সি টাউনশিপ মডার্ন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তরুণ ভট্টাচার্য্য জানালেন, স্কুল দুটি জিনিসকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো কাজটা করেছে, এক=যাদের হাতে অত্যাধুনিক মানের দামি মোবাইল সেট নেই তারা অনলাইন সিস্টেমের পড়াশোনা থেকে কেন বঞ্চিত হবে?

আবার এই লকডাউনে যে অভিবাবকরা কাজ হারিয়েছেন তাদের কাছে মোবাইল নেট প্যাক ভরার চেয়ে পরিবারের জন্য  দুই বেলা দুই মুটো অন্নের ব্যবস্থা করাটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আর এরপরের বিষয়টি ছিল স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা অনলাইন ক্লাস তো করছেন, কিন্তু ছাত্র ছাত্রীদের মেধার মানের কি উন্নতি হচ্ছে?

কারণ স্কুল বন্ধ, স্রেফ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে ছাত্র ছাত্রীদের মেধার মানের  কতটা উন্নতি হতে পারে সেটার মূল্যায়ন প্রয়োজন, এই ভাবনাগুলিকে মাথায় রেখে অনলাইন আর অফলাইনের বিভেদ দূরত্ব সরিয়ে দিয়ে দুর্গাপুর এম. এ. এম. সি টাউনশিপ মডার্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ এই প্রদ্ধতিতে ছাত্র ছাত্রীদের মেধার মানের মূল্যায়ন যাচাইয়ের কাজটা শুরু করল বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তরুণ ভট্টাচার্য্য জানালেন.

দুর্গাপুর এম. এ. এম. সি টাউনশিপ  মডার্ন  স্কুল কর্তৃপক্ষের  এই অভিনব ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছে শিক্ষা মহল. শুধুমাত্র অত্যাধুনিক মানের প্রযুক্তি নির্ভর না হয়ে, অনলাইন অফ লাইনের বিভেদ সরিয়ে দিয়ে ছাত্রী ছাত্রীদের মেধার মান যাচাইয়ের বিকল্প ভাবনা নিয়ে যে প্রদ্ধতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করল তা যথেষ্ট প্রশংসার দাবী রাখে বলে শিক্ষা মহল মনে করছেন.

Comments

  1. Apnar dekhabo poth Anusoron korbe anekschool.Thank you slr.

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

পাহাড়কে দূষণ মুক্ত করার ডাক দিয়ে দুর্গাপুর থেকে সাইকেল করে শুশুনিয়া পাহাড় পাড়ি তরুণ ব্রিগেডের।

দুর্গাপুরের মহকুমা শাসকের হাত ধরে শহরের বুকে যাত্রা শুরু এম পিক্স.কমের.

দুর্গাপুর ব্যারেজে দামোদরের জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী স্ত্রী।